empty
29.09.2026 11:33 AM
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় টানা মূল্যবৃদ্ধির পর আজ জ্বালানি তেলের কিছুটা দরপতন ঘটেছে।

This image is no longer relevant

গত সেশনে সামান্য পুলব্যাক বা দরপতনের পর ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $107 ছাড়িয়ে গেছে, অন্যদিকে ডব্লিউটিআই গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর $93-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল ইরানি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনর্বহালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সেই হতাশা আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ড্রোন হামলার কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবের আন্তঃদেশীয় 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন'—যা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম—এর সক্ষমতার মাত্র অর্ধেক পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের দিকে তেল সরবরাহের পরিমাণ ইতিমধ্যেই দৈনিক অন্তত 3.5 মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হওয়া সত্ত্বেও ট্রেডাররা সহজ সত্য মেনে নিয়েছে: জ্বালানি তেল শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছেই যায়। বর্তমানে আমরা তেলের মূল্যের এমন কোনো দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা দেখছি না—যা তখন অনিবার্য হয়ে পড়ত, যদি ট্রেডারদের মধ্যে ভৌত সরবরাহে আসন্ন ও বড় ধরনের বিঘ্নতা ঘটার বিষয়ে গুরুতর কোনো আশঙ্কা থাকত।

এটা স্পষ্ট যে, সামগ্রিকভাবে সেপ্টেম্বর মাসেও টানা জ্বালানি তেলের দর তৃতীয় মাসের মতো বৃদ্ধি পাবে; এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সৌদি আরবের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্নতা এবং ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বছরের শুরু থেকেই ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম 70%-এরও বেশি বেড়েছে।

This image is no longer relevant

ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের নিকটমেয়াদী কন্ট্রাক্টগুলোর মধ্যকার মূল্যের পার্থক্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $7-এরও বেশি হয়েছে, অথচ গত মাসের শেষে এই ব্যবধান $1-এর নিচে ছিল। মার্কেটের এই অবস্থাকে 'ব্যাকওয়ার্ডেশন' বলা হয়, যা মূলত মার্কেটে সরবরাহের তুলনায় চাহিদার আধিক্য বা টানটান পরিস্থিতির একটি চিরাচরিত লক্ষণ। ইউরোপে ফিজিক্যাল মার্কেটের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত 'ফিক্সড-প্রাইস ব্রেন্ট'-এর ট্রেডিংয়েও ফিউচার্স মার্কেটে তুলনায় উল্লেখযোগ্য বাড়তি দর পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $96-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $100-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $104 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $92-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $89 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $87 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.