আরও দেখুন
মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের JOLTS থেকে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনকেই উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থানের শূন্যপদ সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই প্রতিবেদনটি প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত হয় এবং এতে উল্লিখিত শূন্যপদের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থাকে সরাসরি নির্দেশ করে না। কারণ, অনেক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে নিয়োগের সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। তাই এটি একটি পরোক্ষ এবং গৌণ সূচক মাত্র, যা সাধারণত ট্রেডারদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ যুক্তরাজ্য, ইউরোজোন এবং জার্মানিতে কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।
মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড এবং ফেডারেল রিজার্ভের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান বেশ স্পষ্ট—উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তারা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার দিকে এগোচ্ছে। ইসিবি এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অবস্থান নিয়েও কোনো অস্পষ্টতা নেই; মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইসিবি কঠোর আর্থিক নীতিমালা বজায় রাখতে প্রস্তুত এবং একই কারণে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এই তিনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নতুন কোনো বক্তব্য মুদ্রানীতি বিষয়ক প্রত্যাশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া, বর্তমানে ইসিবি ও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালার বিষয়ে ট্রেডারদের আগ্রহ খুবই কম, ফলে ক্রিস্টিন লাগার্ড আজ কী মন্তব্য করেন, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রতিনিধি দল ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে এবং মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এমন আশাব্যঞ্জক ফলাফলের ওপর ট্রেডারদের কোনো আস্থা নেই। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কংগ্রেস নির্বাচনের পর তিনি হয়তো পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন—কারণ (যেমনটা ধারণা করা হচ্ছে) কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1366–1.1377 এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।