আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য কারেকশন পরিলক্ষিত হয়েছে—ছোট পরিসরে হলেও একে কারেকশনই বলা যায়। দুই দিনের এই কারেকশন খুব একটা উল্লেখযোগ্য না হলেও, একেবারে কোনো মুভমেন্ট না হওয়ার চেয়ে এটি ভালো। অথচ ইউরো (এবং ইউরো-ভিত্তিক পেয়ারগুলো) এমন কোনো কারেকশন দেখাতে পারেনি। ফলে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রমাণ চার্টে অঙ্কিত ডিসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইনটিতে পাওয়া যায়। সোমবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইভেন্ট ছিল না, তবুও অধিকাংশ বিশ্লেষক মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে সমর্থন করে এমন যেকোনো যুক্তিই এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে—যেমন মুদ্রানীতির ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর অবস্থান, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি—এই বিষয়টি যেন খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত পাঁচ বছর ধরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আট মাস ধরে চলছে; অর্থাৎ, ইদানীং উল্লেখযোগ্য নতুন কোনো ঘটনা ঘটেনি। উভয় ক্ষেত্রেই শান্তি স্থাপনের পথে আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং আগের মতোই নিকট ভবিষ্যতে চলমান সংঘাতের সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো স্পষ্ট ট্রেডিং সিগন্যাল পাওয়া যায়নি। দিনের প্রথমার্ধে এই পেয়ারের মূল্য সামান্য বেড়ে 1.3259–1.3267 এরিয়ার বাউন্ডারির কাছাকাছি পৌঁছায় এবং দিনের বাকি সময় সেখানেই ওঠানামা করেছে। এ সময় কোনো উল্লেখযোগ্য রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট দেখা যায়নি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মূল প্রভাব বিস্তার করছে তা হলো, ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। তবে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র একটিমাত্র বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করি।
মঙ্গলবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 জোন থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার উপর কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। যুক্তরাষ্ট্রে JOLTS থেকে কর্মসংস্থানের সৃষ্ট শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; এটি মূলত একটি অতীতের ফলাফল প্রদর্শনকারী সূচক, যা ট্রেডারদের কাছে সাধারণত খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। আমরা আশা করছি, আজও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।