আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের আবারও কিছুটা কারেকশনের প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবেই এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইনের বাধার মুখে পড়ে; এই লাইনটি তখন—এবং এখনও—মূল্যের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে, কারেকশনের সর্বশেষ প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়। টানা তিন সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে এবং বিশ্লেষকরা ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মূল কারণ হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত কঠোর অবস্থানকে চিহ্নিত করছেন। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, ট্রেডাররা টানা তিন সপ্তাহ ধরে একই অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না; তাই শুধুমাত্র ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির একমাত্র কারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সম্ভবত আমরা এখন একটি মোমেন্টামভিত্তিক সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল মুভমেন্ট লক্ষ্য করছি। মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে কারণ এটি কেনা হচ্ছে, আবার মার্কেটে এটি কেনা হচ্ছে বলে এটির দর বাড়ছে। বিষয়টি শুনতে মামুলি মনে হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি এমনই দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পূর্ব ইউরোপে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববাসী ইউক্রেন সংঘাতের বিস্তৃতির আশঙ্কা করছে—বা অন্তত সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না—যার ফলে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট থেকে মূলধন সরে যেতে পারে। আর এই মূলধন মূলত মার্কিন ডলারের দিকেই ধাবিত হয়।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যার ফলে দিনের বেলায় মূল্য প্রায় 25 পিপস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা বেশ কম থাকায় কোনো একটিমাত্র সিগন্যাল থেকে প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণও বেশ সীমিত ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এখন মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে। মার্কেটের ট্রেডাররা অন্যান্য সকল বিষয় উপেক্ষা করে চলেছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো আকর্ষণীয় ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই দিনের বেলায় মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো কোনো বিষয় থাকবে না। সম্ভবত আমরা আরও একবার একঘেয়ে সোমবারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যার রেশ হয়তো মঙ্গলবারেও বজায় থাকবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।